রিয়াদে মানবেতর জীবনযাপন করছে ১৪৬ প্রবাসী

পরিবার পরিজনের সুখের কথা ভেবে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে একটু স্বচ্ছলতার আশায় দেশ ছেড়ে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু তারা পারেননি তাদের পরিবারে সুখের হাসি ফুটাতে। তেমনি ভাগ্যের নির্মম অধ্যায়গুলো পার করছে বর্তমানে সৌদি আরবের এরকম অধিকাংশ প্রবাসীরা।

সৌদি আরবের স্বনামধন্য ফার্নিচার কোম্পানি ‘রিয়াদ ফার্নিচার’তে বর্তমানে ১৪৬ জন বাংলাদেশিসহ, ভারত ও ফিলিপাইনের শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করছে। কিন্তু তাদের আট মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এমন কি এই দীর্ঘ সময় তাদের খাওয়ার খরচের টাকাও দেয়া হচ্ছে না। অথচ ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক দিয়ে নিয়মিত কাজ করানো হচ্ছে। বেতন চাইতে গেলে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। বেতন না পেয়ে বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার দেনা করে কোনো রকম জীবন যাপন করছে এই রেমিটেন্স যোদ্ধারা।

এদের মধ্যে কুমিল্লার মাসুম জানান, আমাদের দীর্ঘ আট মাস ধরে কোম্পানি বেতন দিচ্ছে না। এমনকি খাওয়ার খরচের টাকা চাইলেও দিব দিব বলে দিচ্ছে না। আমাদের অধিকাংশ শ্রমিকের আকামা ও মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স শেষ হয়ে গেছে। ইচ্ছে করলেই আমরা বাহিরে যেতে পারছি না। ধারদেনা করে চলতে চলতে কষ্ট হচ্ছে । আমরা দেশে যেতে চাইলেও দেশেও পাঠাচ্ছে না কোম্পানি। এক প্রকার আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।

কুমিল্লার মাসুমের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের সৌরভ উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুলাইমান উদ্দিন, টাঙ্গাইলের ইদ্রিস মিয়া, সরোয়ার হোসেন, গৌরনদীর সুমন শিকদার রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রম সচিব মেহেদী হাসানের কাছে তাদের এই সমস্যাগুলো খুলে বলেন। মেহেদী হাসান তাদের সমস্যা শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের পূর্ণ সহয়তার আশ্বাস দেন।

শ্রম সচিব মেহেদী হাসান বলেন, শ্রমিক ভাইদের সমস্যার কথা শুনেছি এবং তাদের অভিযোগের দরখাস্ত নিয়ে আমরা কাজ করবো। সৌদি আরবের লেবার মন্ত্রণালয় এইসব শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট আদায়ের জন্য মামলা হবে এবং আমরা এই মামলায় দূতাবাসের লেবার সেকশন সার্বিক সহযোগিতা করবো। এ জন্য শ্রমিক ভাইদের কোনো উকিল নিয়োগ করার প্রয়োজন নেই। মামলা সরকারী ভাবেই পরিচালিত হবে। দূতাবাস সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে এবং কোম্পানি ১৪৬ জন শ্রমিককে বেতন দিতে হবে।

লেবার কোর্টে মামলা করার পরে শ্রমিকদের প্রতি মালিকের কোনো মির্যাতনের সম্ভাবনা থাকলে করণীয় কি এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান বলেন, এরকম আশঙ্কা থাকলে আমরা যখন মামলা করবো তখন সৌদি আরবের ক্রাইসিস ডিপার্টমেন্টকে আমরা অবহিত করবো এবং তারা এটা দেখবে, কোন সমস্যা হবে না।

স্বপ্নের বাংলাদেশ/নূর