শিরোনাম

বুক রিভিউ ‘কবি ও রহস্যময়ী’

মো: মনোয়ার হোসেন

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

বুক রিভিউ ‘কবি ও রহস্যময়ী’
লেখকঃ বিশ্বজিৎ চৌধুরী
প্রকাশকঃ প্রথমা

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য কর্মে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অভাব-অনটন,প্রেম-বিরহ এবং  তাঁর সময়কার সমাজ-রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি ছবির মতোই ফুটে উঠেছে। কবির জীবনে প্রণয়-পরিণয়ের গল্প নিয়ে অনেক উপাখ্যান প্রচলিত থাকলেও তাঁর জীবনে নার্গিস অধ্যায় কিংবা আশালতা সেনগুপ্তার সাথে তাঁর বিবাহের বিষয়টি যত আলোচিত ঠিক ততটাই আলোচনার বাহিরে থাকে কবির জীবনের সাথে ফজিলতুন্নেসার সম্পৃক্ততা।এ বিদুষী নারীর সাথে কবির পরিচয়, সম্পর্ক, সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই রচিত হয়েছে “কবি ও রহস্যময়ী”।

ফজিলতুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী। রক্ষণশীল সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ও দারিদ্র্যের সব বাধা ডিঙিয়ে মুসলিম এ বিদুষী নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিলেন। কাজী নজরুলের দৃষ্টিকে তীব্র ভাবে আকর্ষন করেছিল এ গুণবতী রমণী। লেখক বিশ্বজিৎ চৌধুরী কবির সাথে ফজিলতুন্নেসার পরিচয়ের পর্ব থেকে শেষ অবধি কবির চোখে যে মুগ্ধতার ছবি একেছেন তাতে একবার এ রহস্যে প্রবেশ করলে সহজে বের হওয়ার উপায় নেই। ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছিল ফজিলতুন্নেসা। কোন আবেগীয় পিছুটান বা হৃদয়ঘটিত দূর্বলতা কোন দিন স্পর্শ করতে পারেনি যে নারীর মন সেখানেই তোলপাড় তুলেছিলেন কাজী নজরুল। একদিকে মুসলিম নারীদের আদর্শ আলোকবর্তিকা হয়ে বাঙালি মুসলিম নারীদের অনুপ্রেরণার ভরসাস্থল,  জীবনের উজ্জ্বল গন্তব্য অন্যদিকে তরুণী হৃদয়ের চকিত চাহনি নজরুলের প্রতি বারবার উকি দিয়েছে ফজিলতুন্নেসার মনে।

কবির মনের সহজাত আবেগের যে উচ্ছ্বাস তা এ গ্রন্থে  প্রকাশিত হয়েছে নির্মলভাবে।  ফজিলতুন্নেসার প্রতি কবি নজরুলের প্রেমের এবং বিরহের প্রকাশ হয়েছে তাঁর লেখা গান ও কবিতায়। কবি লিখেছেন –
‘ভয় নাই রানী রেখে গেনু শুধু চোখের জলের লেখা
রাতের এ লেখা শুকাবে প্রভাতে চলে যাই আমি একা।’
কিন্তু গণিতের ছাত্রী ফজিলতের মনের আবেগ সূত্র-নিয়মের নিচে চাপা ছিল, উচ্ছল প্রকাশের আতিশয্য ছিল না। তবে ফজিলতের মনেও নজরুলের জন্য অপেক্ষার যে হাহাকার ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে  বিষয়ের প্রতি লেখক বিশ্বজিৎ চৌধুরীর পড়াশোনার গভীরতা ও আকর্ষন স্পষ্ট হয়ে উঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের মাধ্যমে নজরুলের সাথে ফজিলতুন্নেসার পরিচয়ের পর থেকে তাঁদের  রসায়নের পড়তে পড়তে তিনি ছিলেন। দুজনেরই যেন বিশ্বস্ত আশ্রয়স্হল ছিলেন কাজী মোতাহার। ফজিলতুন্নেসার মুখাবয়বে কঠিন পাথর ও ভেতরে কুসুমের যে পরিচয় লেখক দিয়েছেন তাতে চোখের সামনে অনেকটাই যেন জীবন্ত হয়ে উঠে এ চরিত্রটি।

দু’জনার দুটি পথ দুটি দিকে বেঁকে গেলেও দুজনের জীবনের তানপুরাতেই যে অপরের জন্য সুর বেজেছে তা গ্রন্থের শেষের দিকে উল্লেখ করেছেন লেখক। ফজিলতের বিয়ের পর নজরুল লিখেছেন –
‘বাদল বায়ে মোর নিভিয়া গেছে বাতি
তোমার ঘরে আজ উৎসবের রাতি।
আর ফজিলতুন্নেসাও যে নজরুলের গানের খাতা জীবনের দীর্ঘ সময় বহন করেছেন সাথে তাতে কবির প্রতি নিরব প্রেমের সাক্ষ্য বহন করে। সেখানে নজরুলের কবিতার উল্টো পাশে তিনিও লিখেছিলেন-
‘তোমায় কিছু দেব বলে
চায় যে আমার মন
নাইবা তোমার থাকল প্রয়োজন। ‘

image_printPrint

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫০
  • ১১:৫৯
  • ৪:৩৪
  • ৬:৪২
  • ৮:০৬
  • ৫:১২

ক্যালেন্ডার

May 2020
M T W T F S S
« Apr    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031