শিরোনাম

প্রতিটি শারীরিক রোগের পেছনে মানসিক চাপ ভূমিকা রাখে: ডা: সুমনা হক

নূর মামুন, ঢাকা

রবিবার, আগস্ট ৪, ২০১৯ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ডা: সুমনা হক

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটা কার্যকর? এর আগ্রহ কমছে, না বাড়ছে? এই চিকিৎসার মান, নিজস্ব ভাবনাসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন ডাক্তার সুমনা হক। তার মতে, ‘প্রতিটি শারীরিক রোগের পেছনে কোনো না কোনো মানসিক চাপ বা উত্তেজনা কারণ হিসেবে ভূমিকা রাখে’।

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি মানুষের রোগসঙ্গী যেমন -প্রেসার, ডায়াবেটিস, এসিডিটি, পাইলস প্রভৃতি রোগ। এগুলোকে আমরা আলাদা আলাদা রোগ হিসেবে দেখতে পেলেও এসব রোগের মূল কারণ ‘দুশ্চিন্তা’। অতিরিক্ত কাজের প্রেসার তা সকলের জানা। তেমনি জেনেটিকভাবে প্রাপ্ত সকল রোগই সুপ্ত অবস্থায় জন্ম থেকে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই থাকে। যে কোনো মানসিক আঘাত বা প্রচণ্ডভাবে মানসিক চাপের ফলে তা যে কোনো সময় প্রস্ফুটিত হয়। গভীরভাবে চিন্তার যোগবিয়োগে এর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

চিকিৎসা শেষে মায়ের কোলে সুস্থ শিশু

তিনি মানব জীবনকে তার নিজস্ব চিন্তা থেকে একটি জীবন্ত বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করেছেন। একটি গাছে যেমন- মূল বা শেকড়, কান্ড, শাখা-প্রশাখা আছে। তেমনি, একটি মানব দেহেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক/অঙ্গ আছে। শেকড় যেমন গাছের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশু জন্মের আগে ও পরে বাবা-মা তেমনি একটি অংশ। বাবা-মায়ের বাইরে শিশুর দেহে কোনোভাবেই জিন প্রবেশ করার সম্ভাবনা নেই।

তিনি মানবদেহকে দুই ভাগে বিবক্ত করেছেন। একটি দেহ অপরটি মন।

 

চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া রোগি

ডা: সুমনা হক বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে শুধুমাত্র দৈহিক বিবেচনা করা হয়। কিন্তু মানসিক বিবেচনা করা হয় না। কিন্তু হোমিওপ্যাথিকে মন এবং শরীর দুইটাকেই সমান করে দেখা হয়। অনেক সময় দেহ থেকে মনের গুরুত্ব দেয়া হয় বেশি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো শারীরিক ঘটনা ঘটার আগে ব্যক্তিকে অবশ্যই মানসিকভাবে প্রস্তুতি বা উত্তেজিত হতে হয়।

তিনি বলেন, একটা রোগ সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিকভাবে দেখা যায় না। কিন্তু কিছু মানসিক লক্ষণের মাধ্যমে বিচক্ষণ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগণের দৃষ্টিতে সেগুলো ধরা পরে। তখন যদি সঠিকভাবে সেগুলো সরানো যায়, তবে সেগুলো আর শারীরিকভাবে রোগের আকার ধারণ করতে পারে না। তবে, রোগের উৎপত্তিস্থল থেকে অবশ্যই রোগ নিরাময় করতে হবে।

চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া রোগি

হোমিওপ্যাথি আর অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পার্থক্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসকের ধর্মই মানুষের সেবা করা। দুটি পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী চিকিৎসা পদ্ধতি। একটির অস্ত্র অপারেশন, অন্যটির সময় নিয়ে ঔষধের মাধ্যমে মূল থেকে আরোগ্য প্রদান। নির্ভর করে রোগীর ধৈর্য্য ও সহনশীলতার ওপরে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুগে অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কার হয়েছে। তারপরও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার কার্যকারিতা আগে যা ছিল, এখনো তাই আছে। যতই যুগ পালটাক, বিজ্ঞানের পরিবর্তন খুব কম হয়। বরং অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ফলে এর সঙ্গে নতুন নতুন টেকনিক উদ্ভাবন হয়, নতুন নতুন রিসার্চের ফলাফল যোগ হয়।

চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া রোগি

ডা: সুমনা হক বলেন, হোমিওপ্যাথি একটা পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা। আর তাই সব বয়সের মানুষেই এই চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। তবে, আমাদের দেশে শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা বেশি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চিকিৎসার পদ্ধতিতে ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এর সফলতার হার বেশি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস বিচারে সর্ব প্রথম আয়ূর্বেদী, তারপর এ্যালোপ্যাথি, এরপর সর্বশেষ এবং সর্বাধূনিক চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে হোমিওপ্যাথির আবিষ্কার হয় । সাধারণ মানুষের কাছে যা অনেকটাই অজানা। প্রাকৃতিক ভেষজ হিসেবে উদ্ভিজ্জ, খনিজ, প্রাণীজ এমনকি সৌরশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি থেকেও এর অধিকাংশ ওষুধ তৈরি হয়ে থাকে।

চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া রোগি

স্পষ্ট করে তিনি বলেন, প্রতিটি একিউটর রোগের পেছনেই একটি সদৃঢ় ক্রনিক কারণ বিদ্যমান থাকে। সেগুলোই তিনি সম্পূর্ণভাবে আরোগ্য করেন।

‘জন্মগত ত্রুটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে তার অভাবনীয় প্রতিকার’ তার গবেষণাধর্মী চিকিৎসার একটি নজিরবিহীন উদাহরণ।

২০১৬-১৮ সালে প্রয়াস নামের একটি প্রতিবন্ধি স্কুল এবং সিডিডি নামের একটি এনজিও’র সহযোগিতায় একটি সফল গবেষণায় জন্মগত ত্রটির কারণ ও প্রতিকার প্রমাণ করার কথা জানান তিনি। হাসপাতাল ফেরত এক টিবি রোগিকে তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার নজিরবিহীন উদাহরণও দেন তিনি। এছাড়াও বিনা অপারেশনে অনেক রোগির টিউমার অপসারণের কথাও বলেন তিনি।

চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া রোগি

তিনি বলেন, গর্ভবস্থায় আমার চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকের সহজ স্বাভাবিক ডেলিভারি ও সুস্থ সবল সন্তান প্রসব করানো হয়েছে।

তার গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, মেধাহীন ছাত্র-ছাত্রীদের আমার চিকিৎসার মাধ্যমে মেধার উন্নয়ন ঘটিয়েছি। কিভাবে রোগীদের অল্প সময়ে ভালো সেবা দেয়া যায় তা নিয়ে এখন বিভিন্ন গবেষণাও করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আবিষ্কারক মহামতি স্যামুয়েল হানেমান। তিনি র্জামানিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। সেখানে হানেমানের যে চেম্বার ছিল, সেটা আজ মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে। উনি বিভিন্ন সময় যে বইগুলো লিখে গেছেন, আমাদের দেশে চিকিৎসা পদ্ধতি বা সিলেবাস সেই আলোকেই তৈরি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সময় এগিয়ে চলেছে। সময়ের সাথে সাথে উন্নত থেকে উন্নততরো হয়ে চলেছে সকল চিকিৎসা ব্যবস্থা। ডাক্তার সুমনা হকের মত আরও অনেক প্রতিভাযশা ডাক্তারদের সহায়তায় হোমিওপ্যাথিও এগিয়ে চলেছে তার স্বীয় আলোয় আলোকিত হয়ে। এখনই সময় এর উদ্ভাসিত হবার।

বিনা অপারেশনে সফল টিউমারের অপসারণ

উল্লেখ্য যে, ডাক্তার সুমনা হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনষ্টিটিউট থেকে মাষ্টার ডিগ্রী করে হোমিওপ্যাথিতে ডি.এইচ. এম. এস. এবং পিজি হোম (পোষ্ট গ্রাজুয়েট) করেছেন। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হয়েও তিনি মানবতার সেবায় হোমিওপ্যাথিককেই জীবনের প্রকৃত পাথেয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সব কিছুর মতো তার চিকিৎসার ধারাটিও শৈল্পিক। তাই তার ক্লিনিকের নামের স্বার্থকতা পেয়েছে – TREA IN ART.

image_printPrint

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫০
  • ১১:৫৯
  • ৪:৩৪
  • ৬:৪২
  • ৮:০৬
  • ৫:১২

ক্যালেন্ডার

May 2020
M T W T F S S
« Apr    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031