কৃতজ্ঞতা মহত্ত্বের পরিচয়

শামীমা ইয়াসমীন

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০ ৭:০৫ অপরাহ্ণ

মানুষের অনেক বড় সম্পদ হলো মানুষকে বিশ্বাস করতে পারা। হয়তো বলবেন,মানুষকে বিশ্বাসতো করতেই হবে। নিশ্চয়ই প্রাণীকুলের মধ্যে মানুষই শ্রেষ্ঠ। হ্যাঁ ঠিক তাই ,কারো মধ্যে কোন রকম অবিশ্বাস আমি কিন্তু খুজেঁ পাই না। কাউকে খুব বেশি বিশ্বাসের বদলে যদি কেউ আপনার বিশ্বাসটাকে কবর দেয় এতে আপনার কি দোষ? মেনে নিতে হবে । কারণ আমরা জানি বিশ্বাসে মিলায় বস্তু ,তর্কে বহু দূর। যারা সহজ সরল তাদের মধ্যে মানুষকে বিশ্বাস করার বিষয়টা খুব কাজ করে এবং তাদের প্রায়ই শুনতে হয় যে, সে বোকা বলেই মানুষকে বিশ্বাস করে। যখন অন্যেরা আপনার সরলতাকে বোকামী বলে,মেনে নিন । প্রতিরোধ করার ক্ষমতা যদি আপনার না থাকে ,বিদ্রোহ করার মত মানসিক শক্তিও যদি না থাকে মেনে নিতে হবে বই কি! কিন্তু কে কখন কি বল্ল, কি করলো ,এগুলো মনে রাখার প্রয়োজন আছে কি? কারণ এসব মনে রাখা মানেই অহেতুক নিজেকে কষ্ট দেওয়া।
আজকাল খুব মনে হয় থাকনা, যে যেভাবে আমাকে ভাবে ভাবুক, যেভাবে আমাকে বুঝে বুঝুক। এটাতো আমার সমস্যা নয়। কাউকে সম্মান করা বা সম্মান দেওয়া এটা সম্পূর্ণ মানুষের মানসিকতার ব্যাপার। তবে আমার মনে হয়,..কাউকে অসম্মান করে কথা বলার রিয়েকসনটা আসেই বোধ হয় একটা ভয় থেকে । যে অসম্মান করে কথা বলে সে হয়তো ভয় পেয়েই অসম্মান করে,যদি আবার তার সম্মানটা অন্যের চেয়ে কমে যায় । তাই হয়তো ইনিয়ে বিনয়ে বদনাম অথবা বিভিন্ন অপ্রাসংগিক কথা দিয়ে মানুষ মানুষকে অপমান করতে চায় । তা করুক । মানুষতো আর ফেরেস্তা নয়। দোষে গুণে একটি জলজ্যান্ত মানুষ । দুঃখ ,কষ্ট ,ভালবাসা কান্না ,আবেগ এসব কিছুই তার আছে । আর মানুষ বলেই সে এসব প্রয়োগ করতে পারে। তাই কষ্ট পেলে রাগ ,দুঃখ , প্রতিক্রিয়া এসব তো হতেই পারে।
অধিকাংশ মানুষেরই চিন্তাধারা থাকে পরোপকার করার। সেটা বিভিন্ন রকম হতে পারে, নানা জনে নানা ভাবে তাকে সংজ্ঞায়িত করে থাকে, তবে উপকার যেমন ধরনেরই হোক না কেন কৃতজ্ঞ হওয়াটা কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার, অধিকাংশ মানুষ যেটা করে তা হল, উপকারীকে ভুলে যায় ,বরং উপকারীর নামে আরো উল্টা পাল্টা কথা বলতেও ছাড়ে না। একজনের একবার তার জীবনের অনেক বড় উপকার করেছিলাম । প্রথমেই সে অস্বীকার করলো , কারণ তার ভাষায় যোগ্যতা আছে বলেই কৃতিত্বতা তারই। । যার উপকার করলাম সে প্রতিদান হিসেবে বলেই বসলো, এটাতো আল্লাহই আমাকে দিয়েছেন । আপনিতো উছিলা মাত্র। অবশ্যই আমি স্বীকার করি, হাজার বার স্বীকার করি, আমার কোন ক্ষমতা নেই, কিন্তু আমার উছিলায় আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন। এইটুকু স্বীকার করলে মনের সংকীর্ণতা দূর হয় বই কি!
এমন অনেকেই আছেন যারা উপকারীর প্রতি অকৃতজ্ঞ ।এমন অনেক বোকা মানুষ থাকে বলেই অনেকে উপকার লাভ করে উপরে উঠে যায়, কিন্তু উপকারীরা বোকা হওয়ার কারণে তার নিজের অবস্থানেই পরে থাকে, কারণ যে মানুষটা বোকার উছিলায় উপকার করতে পছন্দ করে, সে কিন্তু বারবার বোকা হয়ে নিজের আগের অপমান ভুলে, আবার আপনার উপকারে ছুটে আসে , বিনিময়ে সে হয়তো আপনার কছে একটু কৃতজ্ঞতা আশা করে । ধরলাম সে বোকা অথবা সরল সোজা । অথচ আপনি কি করলেন তার কাছ থেকে উপকার নিলেন ঠিকই এবং পিছনে তাকে বোকা উপাধি দিলেন সুতারাং আপনিতো অবশ্যই চালাক এবং বুদ্ধিমানও বটে।।
সমাজে চলতে আমাদের অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। শুধু যে কেবল বিপদ ও দুঃসময়ের জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন হয় এমনটি নয়, বরং সহযোগিতা প্রয়োজন হয় খুশি ও আনন্দের প্রতিটি সময়ে। বড় কোনো অনুষ্ঠানও পূর্ণতা পায় অন্যদের অংশগ্রহণেই এবং সকলের অংশগ্রহণের কারণেই তা সফল ও সার্থক হয়। সুতরাং দেখা যায় অন্যের সহযোগীতা ছাড়া কোন আনন্দই আনন্দ নয়। আর কারো সহযোগীতাকে যদি আপনি অস্বীকার করেন তবে বলবো ,অবশ্যই আপনি স্বার্থপর।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করি। কথা হল, যখন আমরা কারও কাছ থেকে সহযোগিতা পাই, উপকৃত হই, এর বিনিময়ে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের উচিত। বিশেষত যদি কখনো নিজের প্রতি উপকারকারী ব্যক্তিটির পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়, তার কোনো উপকার করার সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তো অবশ্যই তা আমাদের কাজে লাগানো উচিত। উপকারী ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটা একটা সূবর্ণ সুযোগ। এ কৃতজ্ঞতা যদি কেউ প্রকাশ না করে, তাহলে সে সমাজের চোখে অপ্রিয়তো বটেই , সে আল্লাহর কছেও নিন্দিত হয় ।
কৃতজ্ঞ হওয়ার মানসিকতা আমাদের লালন করা উচিৎ। এমন যেন না হয়, আমার বিপদে একজন পাশে দাঁড়াল, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল, কিন্তু আমি তা ভুলেই গেলাম, তার প্রতিপক্ষ হয়ে গেলাম। তাহলে পারস্পরিক সম্প্রীতির যে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। কারও উপকার ও সহযোগিতার কথা মনে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর তা আজীবন মনে রাখতে হবে । আর যদি তাকে কোনো উপকার করার সুযোগ পাওয়া যায়, তা ছোট হলেও এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। এতে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। সম্পর্ক মজবুত হয়।
লোভ,হিংসা,স্বার্থপরতা,পরশ্রীকাতরতার মতো মানুষের আরেকটা খারাপ বৈশিষ্ট হলো অকৃতজ্ঞতা। অকৃতজ্ঞ মানুষের কাজই হলো উপকারীর উপকার স্বীকারের পরিবর্তে তাকে প্রতিদানে সাধ্যমতো ক্ষতিগ্রস্ত করা বা তার কাছ থেকে পাওয়া উপকারের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা।
উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকাটা খুব জরুরি। এতে করে উপকারী মানুষটা আরো বেশি উপকার করার উৎসাহ পায়। তাই কাউকে সহযোগিতা করা, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, উপকারীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার, সম্ভব হলে তার উপকার করা সবটাই হবে ,আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই। উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশই মানুষকে বড় করে।

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ,তেজগাঁও কলেজ,ঢাকা।

image_printPrint

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৪
  • ১২:০৭
  • ৪:৪৩
  • ৬:৫৩
  • ৮:১৮
  • ৫:১৮

ক্যালেন্ডার

July 2020
M T W T F S S
« Jun    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031