করোনা প্রতিরোধে– “কৌশলগত ত্রুটি- বিচ্যুতি ও আমাদের করণীয়”

মোফাচ্ছের হোসাইন জীবন

মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২০ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

এই ধরনীতে কোন মহামারী বলেকয়ে আসে নি।পৃথিবীর কোন দেশ কোভিড-১৯ এর জন্য প্রস্তুত ও ছিল না। চীনের হুবেই প্রদেশের ঊহান থেকে যখন করোনা ভাইরাসটি সামাজিভাবে সংক্রমিত শুরু হয় তখন WHO ভাইরাসকে প্রতিরোধে লক ডাউন পদ্ধতিতে প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কার্যক্রম গ্রহনে নির্দেশ দিয়েছিল।সে প্রেক্ষিতে চীন সরকার কঠোর লক ডাউন পদ্ধতি ও স্বাস্হ্যবিধি পরিপূর্ণ মানতে জনগনকে কঠোর চাপ প্রয়োগে বাধ্য করে ৭৩ দিনের মাথায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্হা গ্রহন করে সম্পুন্ন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে অাসে।তখন বিশ্বের অপর প্রান্তের দেশ সমুহ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমুহ বিশেষত– ইউরোপ- অামেরিকা ও প্রাচ্য প্রাশ্চ্যাতের দেশ সমুহ করোনার ভয়াল তান্ডব হতাশার আবর্তে সকলকে লন্ডভন্ড করে দিবে তা ভাবতেই পারে নি।বর্তমানে বহুল আলোচিত রাষ্ট্রনায়ক ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ব্যাংগ করেই চীনা ভাইরাস হিসাবে আখ্যায়িত করে রসিকতা করেছিলেন। আফ্রো- এশিয়া সহ মধ্য প্রাচ্যের অনেক দেশ কিছুটা আচ করতে পারলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহনে ত্রুটি করেছিল।দক্ষিন- পুর্ব এশিয়ার কিছু দেশ বিশেষত ভিয়েতনাম,দক্ষিন কোরিয়া,শ্রীলংকা,কিউবাসহ পার্শ্ববর্তী কেরালা রাজ্য কঠোর লক ডাউন ও বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার নির্দেশিত স্বাস্হ্যবিধি পরিপূর্ণ মেনেছিল বিধায় কিছুটা নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে গতি পাচ্ছে। ৮ ই মার্চ থেকে আমরা সে দিক থেকে রাষ্টীয়ভাবে নেওয়া নানান কৌশলে মারাত্মক ভাবে পরাস্ত হয়েছি।জীবন জীবিকার যুগসন্ধিক্ষনে বৈশ্বিক মহামারীর চ্যালেন্জ মোকাবেলায় বিশ্বের জনবহুল ঘনবসতিপুর্ন দেশটি তে পর্যাপ্ত প্রটেকশান নেওয়া হয় নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদুরপ্রসারী দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, মানবিক মুল্যবোধ সম্পন্ন দৃষ্টিভংগীর কারনে কতিপয় পদক্ষেপে জনগন এখনও বেচে আছে।বাকী সময়টা আস্থার শেষ ভরসায় বাঁচার আকুতিতে প্রহর গুনছে।কিন্তু অদৃশ্য শক্তিধর ভাইরাস মোকাবিলায় Quality লকডাউন এবং Quantity Test করে প্রতিরোধ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি। Test কিট আনতে শুরুতেই ১৫ দিন বিলম্ব করে ফেলেছি। ফ্রেব্রুয়ারী / মার্চের বিদেশ থেকে আগত প্রবাসীদের বিমান/ স্হল বন্দরে ঢিলাঢালা পরীক্ষা ও বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক / হোম কোয়ারেন্টিনে রাখতেও পারিনি।আশকোনাতে যে ব্যবস্হা ছিল তারও চরম অবহেলা ছিল।কোয়ারেন্টিন,হোমকোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন সহ লকডাউনের সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষন, মর্মার্থ এবং মানার সংস্কৃতিকে সাধারন জনগণকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি।জনগনকে করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় জীবন বিপন্ন হবে এধরনের ভীতির ডর -ভয় দিতে অবহেলা করেছি। সেজন্য আমাদের জনগণ সবকিছুর সাথে তামাশা করছে! অনেকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারীর মহাসংকটে বর্তমান শতাব্দীতে সকলের বেঁচে থাকাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় মূলধন তাও আবার মুনাফালোভী কতিপয় ব্যাবসায়িক গোষ্ঠী বেমালুম ভুলে গিয়েছেন।জীবিকার আমিত্যে হত:দরিদ্র শ্রমিক শ্রেণীকে অবর্ণনীয় কষ্ট দিয়ে কাজে নিয়ে এসে করোনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইভোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫০% মানুষের মৃত্যু,সার্স ভাইরাসে ৩৭% মানূষ মারা গিয়াছে এসব তথ্য সাধারণ জনগনের জানা নেই। তাহলে লাল সবুজের পতাকা খচিত জাতির জনকের সোনার বাঙলার অসচেতন জনগনের কি উপায় হবে? আমাদের সামনেই বা কি করণীয়! সারা গিলবার্ড যে ভ্যাক্সিন অাবিস্কার করেছেন কোভিড-১৯ নির্মুলে তা হয়তো আগামীদিনে আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করবে হয়তোবা! তাও আবার সময়সাপেক্ষ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী ঔষধেরও আবিস্কার হয়নি। যে সকল ঔষধের কথা তাবৎ দুনিয়ায় শুনা যাচ্ছে তাও প্রিভেন্টিভ। এখন পর্যন্ত WHO তা অামলে নিচ্ছে না। তাই সকলকে স্বাস্হ্য বিধি মেনে STAY Home, সামাজিক দূরত্ব মেনে নাকে–মুখে পট্টী দেওয়াই প্রধান দাওয়াই। যদিও দারিদ্রের চরম কষাঘাতে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে হত: দরিদ্র,দিন মজুর খেটে খাওয়া মানুষ ক্ষুধা নিবারনের জন্য কাজের ধান্ধায় ঘরে থাকছে না। তারপরও জনস্বার্থ বিবেচনায় অামাদের সকলকে লকডাউন মানাতে হবে, মানতে হবে!! সকল নাগরিককে সংক্রমন আইন-২০১২ এবং দুর্যোগ ব্যাবস্হা আইন–২০১৮ সম্পর্কে সাধারণ জনগনকে Brief করতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রলায়কে।সকল বেসরকারী হাসপাতাল সমুহকে বিশেষ অডিন্যন্স জারি করে স্বাস্হ্য সেবাকে অত্যাবশ্যকীয় সেবায় ঘোষনা দিতে হবে।প্রয়োজনে Army medical core কে কাজে লাগানো যেতে পারে। দেশের ৬২% স্বাস্হ্য খাত বেসরকারী পর্যায়ে নিয়ন্ত্রনে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের জনগনের চিকিৎসার জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।সাধারন জনগনের Tax এর পয়সায় যাদের ডাক্তারী পড়া তারাও অনেকে দূরে সরে আছেন! পেন্ডিমিক পৃথিবীতে ১০০ বছর পর পর প্রতিনিয়ত আসে।গর্বিত ডাক্তার হওয়ার প্রতিদান দেওয়ার সময় এখনই। দেশের প্রয়াত সাবেক কেবিনেট সচিব ড;শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী যদি চিকিৎসা না পায়! অতিরিক্ত সচিব(অব:) জনাব গৌতম এইচ সরকার যদি হাসপাতালে ভর্তির জন্য দিক বিদিক ছুটা ছুটি করতে হয় এলজ্জা!রাখবো কোথায়? সামনে বর্তমানের চেয়ে যদি বেশী ভয়াভহ পরিস্হিতির উদ্ভব হয় সেজন্য ব্যাক্তিগত কিছু অনুভূতি ও করণীয় দিক তুলে ধরলাম—– (১) দেশের সরকারী ৪৯, ৪১৪ এবং বেসরকারী ৮৭,৬১০ অানুমানিক সকল হাসপাতালের বেডকে অার্মি ষ্টাইল এ প্রস্তুতির জন্য ভাবতে হবে।(২) করোনা যুদ্ধে শামিল হওয়ার জন্য বিশেষ প্রনোদনা দিয়ে ১,২৬০০০ হাজার ডাক্তারকে সকল ধরনের চিকিৎসায় সক্রিয় হতে রাষ্ট্রীয় ঘোষনা দেওয়া যায় কিনা ভাবতে হবে।(৩) অাগামী ১৫ দিন সম্পুন্ন ভাবে কোভিড-১৯ ঝূকিপ্রবন এলাকা সমুহকে জনতার কার্ফিউ/ কাযর্কর লকডাউন করতে হবে।কম ঝূঁকিপ্রবন এলাকা সমুহকে Red, Green, Yellow জোন করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে। (৪)পরীক্ষার সংখ্যা পাশ্বর্বতী দেশের সাথে সামন্জস্য রেখে দৈনিক ১২ /১৪ হাজারে উন্নীত করতে হবে। (৫) কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং এ MOBILE এ্যাপস চালু করতে হবে।Tele medicine সিস্টেমের প্রবাহ বাড়াতে হবে।(৬)IEDCR কে বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার গাইড লাইনে পর্যাপ্ত অথর্য়ানে জবাবদিহীতামুলক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তর করা যায় কিনা ভাবতে হবে।(৭) সকল সরকারী- বেসরকারী মেডিকেল কলেজে Community Medicine কে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসাবে ক্যারিকুলামে/ সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।(৮) অাগামী অর্থ বাজেটে স্বাস্হ্যখাতে জিডিপি এর -৩% এবং শিক্ষা ও গবেষণা খাতে অনুরুপ ৬% অর্থ বরাদ্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের বাজেট পেশ করতে হবে (৯) করোনা সংকটকালে বন্ধুপ্রতীম পাশ্বর্বতী দেশ ভারতের ন্যায় দুর্যোগ মোকাবেলায় ৬০/৬২ হাজার জনপ্রতিনিধি দের বেতন – ভাতার ৩০% কর্তন করে গরীব মধ্যবিত্তদের জন্য কিছু করা যায় কিনা তা ভাবার সময় এসেছে।(১০)একবিংশ শতকের চ্যালেন্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে ৫০ হাজার কেজি স্কুল, ৬০০০ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যাপিঠ, ৩০০০ কলেজ, সর্বোপরি বর্তমান সরকারের বিশেষ জনকল্যানমুখী কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ৩০২ টি সরকারী প্রক্রিয়াধীন প্রতিষ্ঠান সমুহে কর্মরত জাতি নির্মানের কারিগর বলে খ্যাত যারা কোনভাবেই এখনও সরকারী বেতন ভাতা পাচ্ছেন না তাদের কথা জনবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ভাবতে হবে।তারা খুবই কষ্টে আছেন।(১১) সর্বোপরী প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১৮ টি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজকে সংশ্লিষ্টদের জন্য সহজীকরণ করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন মহতী প্রয়াস ভেস্তে না যায় সেজন্য সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পরিশেষে বলবো সাইন্টিসদের কথা শুনতে হবে,জনস্বাস্হ্য বিশেষক্গদের উপদেশ মানতে হবে,অমর্ত্য সেনের ভাষ্য অনুযায়ী তথ্য প্রবাহে বাধা দেওয়া যাবে না যদি সেটা দেশ জাতির জন্য ক্ষতিকারক না হয়।সকলকে স্বীয় অবস্হান থেকে জীবনের এই মহাসংকটে দায়িত্ব পালনে অটুট থাকতে হবে।আমরা ভুলে গেলে চলবে না—” সকলে আমরা সকলের তরে প্রত্যেকে অামরা পরের তরে”। আমরা সচেতন থাকবো,শংকিত হবো না,মনে সাহস রাখবো,করোনা মহামারীকে জয় করবো ইনশাল্লাহ্।সৃ্ষ্টিকর্তা আপনার সৃষ্টির সেরা জীবকে মহামারী থেকে মুক্ত করুন।

লেখক: শিক্ষক, ইস্পাহানী সরকারী কলেজ,কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ

image_printPrint

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৪
  • ১২:০৭
  • ৪:৪৩
  • ৬:৫৩
  • ৮:১৮
  • ৫:১৮

ক্যালেন্ডার

July 2020
M T W T F S S
« Jun    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031