শিরোনাম

করোনা পরবর্তী বাংলাদেশঃ মানবিক প্রধানমন্ত্রী বনাম রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

জাহাঙ্গীর আলম

শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতি,  এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্ব অর্থনীতিতেও মহামন্দা আর পূর্বাভাস নয়, রূঢ় বাস্তবতা।  এমনকি পৃথিবীর সবকিছু এখন করোনার আগে ও পরের  হিসেবে বিবেচিত হবে। অার্থসামাজিক অবস্থান সুদীর্ঘ সময়েও পূর্বের ন্যায় ফিরে আসবেনা এমনকি বিশ্বায়নের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম সম্প্রদায় ধারণাকে আরও শক্তিশালী করবে। ব্যাংক অব চায়না সম্প্রতি বলছে,” জনস্বাস্থ্য রক্ষার তাগিদে অর্থনৈতিক সব কার্যকলাপ বন্ধ করে যে ক্ষতি হচ্ছে—এতে অর্থনীতিবিদেরা এটা ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন যে কোভিড-১৯ এর অর্থনৈতিক ধাক্কা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার চেয়েও আরও বেশি মারাত্মক হবে। এমনকি ১৯২৯ সালের মহামন্দার মতো (গ্রেট ডিপ্রেশন) পরিস্থিতি হতে পারে”। এবারের মহামন্দা সবকিছুকে ছাড়িয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য  ধারণ করবে একথা নি:সন্দেহেই বলা যায়।

করোনার বৈশ্বিক রূপ পর্যবেক্ষণ করে আমাদের দেশেও নানামুখী পদক্ষেপ বর্তমান সরকার  গ্রহণ করেছে। সারা বিশ্বের মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে আমাদের দেশের মৃত্যু। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা ফিকে হয়ে আসছে ভবিষ্যতের মহামন্দার কথা ভেবে।
। বাংলাদেশে করোনা নিয়ে উদ্বিগ্নতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে করোনা পরিবর্তী আমাদের বেঁচে থাকার লড়াইটা কেমন হবে? মানুষের জীবনযাত্রায় কি ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? এখনই উদ্যোগ না নিলে তা দুর্ভিক্ষে  পরিণত হবে কি না?? আমদানী নির্ভরতা  পণ্য কিভাবে চাহিদা মেটাবে? রপ্তানি না করতে পারলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা কিভাবে আসবে? রেমিট্যান্স প্রবাহ না থাকলে অর্থনীতির চাঁকা কি ঘুরবে?? কুটনৈতিক সম্পর্কে কি ধরনের পরিবর্তন আসবে?? নতুন কর্ম সংস্থান না করতে পারলে বেকারত্ব হতাশায় রূপ নিয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার সমাধান কি? ইত্যাদী ইত্যাদী।
করোনা পরবর্তী পৃথিবীর রূপরেখা নিয়ে রাষ্ট্রচিন্তাবিদ,অর্থনীতিবিদ,  সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবনা শুরু হয়ে গেছে।  তবে এবারের শিক্ষা নিয়ে মানবিক পৃথিবীর কথাই বলছেন সবাই। যদিও একেবারেই চরম দুঃসময়ে মানবিকতাও ফিকে হয়ে যায় করোনা আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে গেলো।

বর্তমান সরকারের পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষনিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করাই স্বাভাবিক। জাতির ক্রান্তিকালে সরকারের পাশে না থেকে  বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন  চাপ দিয়ে সরকারের কাছ থেকে  প্রণোদনার নামে নগদ অর্থ সহায়তা নিচ্ছেন। এরা আগেও নানা সুযোগ নিয়ে সম্পদের পাহাড় তৈরী করেছে।  দীর্ঘদিন ব্যবসা করে তিন মাস চাইলে যেকোনো মালিক শ্রমিকের মজুরী নিজ অর্থে দিতে পারে। কিন্তু সরকারকে সহযোগীতা  না করে উল্টো চাপে রেখে অর্থ নেবার এই সুযোগও তারা হাতছাড়া করবে না।
এবার আসি মূল কথায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কারো কোনো চাপে বা অসহযোগিতায় আপনি নমনীয় হবেন না। আরও কঠোরতার সকল পন্থা  অনুসরণ করুন। এক্ষেত্রে স্বরণ করি ম্যাকিয়াভ্যালীর বিখ্যাত উক্তি “End justifies the means.”
রপ্তানীমুখী শিল্পে কোনো প্রণোদনা নয়, শুধু মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও কৃষিতে  প্রণোদনা দেন। এটাই সময় কে কিভাবে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে তা খুঁজে বের করার।  চিকিৎসার নামে বাইরে যাবার সুযোগ ও পাবে না। রাজনীতিবিদদের সমালোচিত করে বিদেশে অর্থ পাচার করে সেকেন্ড হোম গড়েছে। যারা পকেটে আলু নিয়ে ঘুরেন আর আগুন লাগালেই সুযোগমতো পোড়া দিয়ে খাবার  চিন্তা করেন তাদের চিহ্নিত করুন। নেপোলিয়ন বলেছেন,
‘মানুষকে দু’টি ‘লিভার’ দিয়েই চালানো যায়। তাহলো ভয় এবং ব্যক্তিস্বার্থ। (“Men are moved by two levers only : fear and self-interest)”। দেশের ১৬ কোটি মানুষের আস্থা আছে আপনার উপর। সবাইকে উৎপাদন এবং স্বেচ্ছা শ্রমের জন্য প্রস্তুত হতে বলুন। প্রনোদনা দিয়ে দেশের মানুষকে বাঁচানো যাবে না, মহামন্দা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যাবে না। দেশি পণ্য ব্যবহার করতে হবে এবং কৃষি উৎপাদনে জোর দিতে হবে।  কাজ এবং মেধার মূল্যায়ন হলে সবাই কাজ করবে। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মানুষের মনোবল ঠিক রাখার প্রণোদনা দেন। উজ্জীবিত করুন আতংকিত মানুষকে। এটা মুজিব বর্ষ, এই বর্ষেই আপনার নেতৃত্বে আমরা বাস্তবায়ন শুরু করবো ‘বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব’। সাপ্তাহিক ছুটি একদিন ও কর্মঘন্টা করুন ১০ ঘন্টা। তাতে সপ্তাহে যোগ হবে ২২ ঘন্টা যা বছরে হবে ১১৪৪ কর্মঘন্টা।
স্বেচ্ছা শ্রমের ব্যবহার হবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে। বৈদেশিক নির্ভরতা কমাতেই হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জবানীতেই ‘অামার দেখা নয়া চীন’ এর উত্থান আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। নিজের দেশের পণ্য ব্যবহার যারা করতে চাইবে না তাদের তো সেকেন্ড হোম করাই আছে, শুধু পাঠিয়ে দিবেন কামলা দিয়ে খাবে ওখানে। আর নিজ দেশে  সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে, শ্রমিককে শোষণ করে, মানুষের হক নষ্ট করে শেফার্ড, এ্যালসেশিয়ান পালবে।  প্রবাসে যারা বিভিন্ন দেশে ভালো অবস্থানে আছেন তাদের সহযোগীতা চান। জন্মভূমির ডাকে অনেকেই সাড়া দিবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রবাসী যাদেরকে দেশে আনা প্রয়োজন তাদের তালিকা করুন,  না আসলে সিটিজেনশীপ বাতিল করে দেন।
আমি বিশ্বাস করি আপনি প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। যা সরকারে থাকতে বিভিন্ন উদ্যোগে প্রতীয়মান হয়েছে। নিজ দলের নেতাকর্মীদের ও আপনি ছাড়েননি। পারিপার্শ্বিক কারনে ব্যহত হচ্ছিল। ‘করোনা’ আপনাকে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। চাটার দলকে ছুড়ে ফেলুন। মনে রাখবেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর আপ্তবাক্য ‘চাটুকারিতা যে জানে, সে নিন্দা করতেও জানে। (He who knows to flatter also knows how to slander)’।   আর ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েন না’ এই কঠিন বার্তা যেন হেরফের না হয়। ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার আপনি ছাড়া কেউ নেই। আপনার মত দেশপ্রেম করো কাছে আশা করতে পারি না। মানবিক প্রধানমন্ত্রী নয়,  আপনাকে দেখতে চাই স্টেটসম্যান বা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে।ইতোমধ্যেই আপনি রাজনীতিবিদের দলীয় সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির সীমানা পেরিয়ে সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের দক্ষতা অর্জন করে বিশ্ববাসীর কাছে রোল মডেল হিসেবে  প্রমাণ করেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , বৈশ্বিক ক্রান্তিলগ্নে  এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও জনগণের প্রতি সহমর্মিতার। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন রাষ্ট্রনায়ক বা স্টেটসম্যানের ভূমিকার যিনি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে সুসজ্জিত করতে পারেন। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনার মতো একজন  প্র্যাগমেটিস্ট বা প্রয়োগবাদীর যিনি বাস্তবতার নিরিখে নতুন নতুন কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করবেন রাষ্ট্র এবং সরকার সবার, সকল ক্ষেত্রে সামগ্রিক জনসমষ্টির অভিন্ন স্বার্থ। আপনার দেশপ্রেমিক নেতৃত্বই সম্মিলন ঘটাবে সবাইকে জাতীয় স্বার্থের বৃহত্তর মোহনায়। সফল রাষ্ট্রনায়ক চান ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে।

সামাজিক অস্থিরতার এই  সময় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে সবার মনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোনোভাবেই পিছপা হওয়া যাবেনা। আরো কঠোর হতে হবে আপনাকে। করোনা পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষুধা জয়ের যুদ্ধেও আমরা জিততে চাই। ৩২ কোটি হাত আপনার দৃঢ় নেতৃত্বে পাশে আছে।  আর্থিকপ্রণোদনা হয়তো সাময়িক ব্যবস্থা কিন্তু দুর্যোগ কিংবা মহামারী যার অবসম্ভাবী পরিনতি মহামন্দা তা আমরা আপনার নেতৃত্বেই কাটিয়ে উঠবো।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির আশা-আকাক্ষাকে ধারণ করে, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নে ধাবমান করতে আপনার মানবিক প্রধানমন্ত্রীত্ব নয় যথার্থ রাষ্ট্রনায়কোচিত ভুমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন। কোটি মানুষের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে বেঁচে থাকুন। জয় বাংলা।

লেখক :
শিক্ষক, তেজগাঁও কলেজ
প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ টিচার্স নেটওয়ার্ক(বিটিএন)
ইমেইল: btnbd71@gmail.com

image_printPrint

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫০
  • ১১:৫৯
  • ৪:৩৪
  • ৬:৪২
  • ৮:০৬
  • ৫:১২

ক্যালেন্ডার

May 2020
M T W T F S S
« Apr    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031