শিরোনাম

আম্মু-আব্বুই আমার জীবনের আইডল: প্রিয়াঙ্কা

নয়ন আহম্মেদ

শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২০ ৯:৩২ অপরাহ্ণ

সময়ের তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী শবনম মুস্তারী প্রিয়াঙ্কা। প্রায় এক যুগ ধরে গান করছেন। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক ভাবে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান তিনি শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে চলতি সময়ে ইউটিউব কিংবা আধুনিক সংগীতাঙ্গনে নির্ভরযোগ্য নারীকণ্ঠ শিল্পীতে পরিণত হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তার কণ্ঠে বেশ কয়েকটি গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। এরই মধ্যে তার একটি গান অনলাইনে প্রকাশের প্রহর গুনছে।

এখনকার ব্যস্ততা ও সংগীত জীবন নিয়ে শবনম মুস্তারী প্রিয়াঙ্কার সাথে কথা বলেছেন তরুণ সাংবাদিক নয়ন আহম্মেদ। তারই কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

১. ‘এক পৃথিবী ভালোবাসা’ শিরোনামে আপনার একটি গান বেশ আলোচনায় এসেছিল, এ ব্যাপারে কিছু বলেন?
– লেজার ভিশনের ব্যানারে ২০১৮ সালে আমার এই মৌলিক গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। বেশ সাড়া পেয়েছিলাম। অনেক জনপ্রিয় গুণী মানুষ জড়িত ছিলেন। কথা ও সুর- অভি আকাশ, কম্পোজিশন- রেজওয়ান শেইখ। ইউটিউবে প্রচুর ভিউ পেয়েছি।

২. আপনার অন্যান্য মৌলিক গান সম্পর্কে বলুন?
-২০১৫ সালে আমার মৌলিক গানের যাত্রা শুরু। কাজী শুভর সাথে ‘নিমন্ত্রণ’। বেলাল খানের সাথে ‘ভাসি-ডুবি সুখে-দুখে’। এ প্রজন্মের আরও জনপ্রিয় কিছু শিল্পীর সাথে কাজ করেছি। এছাড়াও এই ভালোবাসা দিবসে ‘বোজেনা চোখের পাতা’ শিরোনামে আমার একটি গান বেরিয়েছে।

৩. সামনে নতুন কোন গান আসছে কি?
– বর্তমানের জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের সাথে একটি গানে দ্বৈত কণ্ঠে দিয়েছি। যেটা দর্শক খুব শিগগিরই শুনতে পারবেন।

৪. আপনার কভার করা গান নিয়ে কিছু বলুন?
-মৌলিক গানের পাশাপাশি এখন পুরানো গান নতুন করে গাওয়ার একটা চলন এসেছে। আমিও অনেক গান কভার করেছি। মধু হই হই, ওরে কর্ণফুলি রে সহ আরও বেশ কিছু গান করেছি। আমার গাওয়া ‘মধু হই হই’গানটি অগনিত ইউটিউব চ্যানেল থেকে ছাড়া হয় যেগুলোর ভিউ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার অবস্থা। কিন্তু দুখের ব্যাপার হল বেশিরভাগ চ্যানেলগুলো আমার নামটাই ব্যবহার করা হয়নি। যেটা কষ্টের।

৫.বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
– আসলে সবাই জানে যে শীতকালে ওপেন কনসার্ট গুলো খুব বেশি হয়। তাই স্টেজ শো নিয়ে আর টিভির প্রোগ্রাম গুলো গুলো নিয়ে বেশি ব্যস্ততা যাচ্ছে। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা কিছুদিন আগেই শেষ হলো তাই আপাতত পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ততা একটু কম।

৬. হঠাৎ করেই আপনাকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে, রহস্যটা কি?
– আমাদের মত নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়, এটা একটা ব্যাপার। আমি খুব ক্ষুদ্র একজন শিল্পী। কিন্তু একটু হলেও মানুষের প্রত্যাশার জায়গাতে আসতে পেরেছি। তাই হয়তো দর্শক, প্রোগ্রাম প্রডিউসার এবং চ্যানেলগুলোতে জায়গাটা ধরে রাখতে পারছি। যেটা আমার জন্য সৌভাগ্যের।

৭. এত ব্যস্ততার মাঝেও লেখাপড়া ও গান কিভাবে করেন?
-এটা সম্পূর্ণ নিজের ওপর ডিপেন্ড করে। আর সাপোটর্টা দরকার পরিবার থেকে। আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ছি। বেশ কঠিন হয়ে যায় সমানতালে সবকিছু করাটা কিন্তু বাবা-মা, শিক্ষক এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাপোর্ট পেয়েছি অনেক। সেজন্য হয়তো সম্ভব হচ্ছে।

৮. বিজ্ঞাপনে কণ্ঠ দেয়ার ব্যাপারে কিছু বলেন?
-আমি যখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়তাম তখন থেকেই জিংগেল করি। জনপ্রিয় কম্পোজার মুশফিক লিটু, রিপন খান এবং সুরকার নাজির মাহমুদ-এর মতো গুণী মানুষদের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। এসব জিঙ্গেলের মধ্যে- রাঙাপরী মেহেদি, স্মার্ট মেহেদি, ম্যাংগোলি জুস, রিজন অ্যারোমা প্রোডাক্ট, কোকোলা নুডুলস অন্যতম।

৯. গান এখন ভিডিও নির্ভর হয়ে গেছে, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?
-যুগ ও পাশ্চাত্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদেরও গানের সাথে সাথে ভিডিও করতে হচ্ছে। ভিডিওটি ইউটিউবে আপলোড হচ্ছে, নইলে আমাদের দেশেও পিছিয়ে যাবে আধুনিক সংস্কৃতির ছোঁয়া থেকে। আরো একটি খুশির সংবাদ হচ্ছে- আমার বেশিরভাগ গানগুলো নিজেরই মডেলিং করা।

১০.ক্যারিয়ারের শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?
-একদম ছোটবেলা থেকেই গান শিখেছি। বাবা সংগীত শিল্পী ইয়াকুব হোসেন। তার কাছেই আমার হাতেখড়ি। এরপর চার বছর শিখেছি গীতিকার সুরকার মিল্টন খন্দকারের একাডেমিতে। তারপর ছায়ানটে ২ বছর শুদ্ধ সংগীত করেছি। এখনও থেমে নেই, ছায়ানটেই নজরুল সংগীতে ৫ বছরের কোর্স করছি।

১১. সংগীত জীবনে বাবার অবদান কতটুকু? যেহেতু উনি একজন সংগীতশিল্পী-
– আমার জীবনের সম্পূর্ণ কৃতিত্বটাই আমার বাবার। বাবা ছাড়া আমি এই জগতে অচল। বাবা সবসময় ছায়ার মত ছিলেন বলে আজ এতোটুকু আসতে পেরেছি। তাছাড়া আম্মুও অনেক আন্তরিক। আম্মুর জন্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছি। একটা গোপন তথ্য বলতে চাই যেটা অনেকেই জানেন না, বাবা বর্তমানে গান লিখছেন। সুরও করেছেন। আমি তার চারটি গান গেয়েছি। মেয়ে হয়ে বাবার গান গাওয়া, সেটা অনেক গর্বের ব্যাপার, ভাগ্যের ব্যাপার।

১২.আপনার পরিবার নিয়ে কিছু বলুন?
-আমার পরিবারের সদস্য খুবই কম। মাত্র ৪ জন। আমার একটা ছোট ভাই আছে, প্রিয়ন্ত। যে ৩য় শ্রেণীতে পড়ে। জেনেটিক্যালি আমার মতো। সেও বাবার কাছ থেকে গান শিখছে। দেখা যাক কতদূর কি হয়।

১৩. ইউটিউবে গান প্রকাশের বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
– খুবই ভালোভাবেই দেখছি। ইউটিউব এর মাধ্যমে সারা-বিশ্ব আমাদের কাজগুলো দেখছে। আমরা উৎসাহিত হচ্ছি। পাশাপাশি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল গুলোর মাধ্যমে নিজের প্রচারও হচ্ছে।

১৪. স্টেজ শো করতে কেমন লাগে?
– আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গাটা হচ্ছে ‘ওপেন কনসার্ট’। যেখানে দর্শকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।

১৫. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
-সবার আগে ক্যারিয়ার। আরো ভালো গান উপহার দিতে চাই। অনেক শিখতে চাই। সমানতালে পড়াশোনা করে বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

image_printPrint

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৭
  • ১২:০০
  • ৪:৩৫
  • ৬:৪৬
  • ৮:১১
  • ৫:১০

ক্যালেন্ডার

June 2020
M T W T F S S
« May    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930