আমি কি পারি

মোঃ আরিফুল ইসলাম

মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২০ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

জন্ম নেবার পর থেকে আমাদের বহুল পরিচিত বিষয়টা থাকে এই সন্তান বড় হয়ে এই হবে। আমাদের পিতামাতা নির্ধারণ করে দেয় আমাদের ভবিষ্যৎ। বিষয়টা আমাদের কাছে খুবই সাধারণ। কারণ এটাই আমাদের সমাজের রীতিনীতি। আর সন্তান বড় হবার সাথে সাথে সেই মোতাবেক সবকিছু পিতামাতা গোছাতে থাকে। কোন স্কুল, কোথায় ভবিষ্যৎ আছে সেই সব গুলো। এটা তো সাধারণ। আরো একটা সাধারণ বিষয়টা আমাদের আড়ালে থেকে যায়। সেটা হলো একটা বস্তিতে জন্ম নেওয়া শিশুর।

একটা বস্তিতে একটা শিশু জন্ম নেবার পর তার পিতা-মাতা ঠিক করে না তার ছেলে কি হবে। তারা চিন্তা করে না এই বাচ্চার পেটে কি দিবে। জন্ম নেবার সাথে সাতে তাদের মুখে ফুটে এক মূল্যহীন হাসি। তাদের একটা সন্তান হয়েছে। একজন মায়ের জন্য সেটা যে কতটা আনন্দের, সেটা চোখে না দেখলে হয়তো উপলব্ধি করা যায় না। যে পিতা মুখ গুজে তার আনন্দ লুকিয়ে রাথে তার মুখেও সেদিন এক আলোর ঝলকানি দেখা যায়। সেখানে সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ দেখা হয় না। দেখা হয় ঐ মুহূর্তের ভালোবাসা।

এর পর দুই দিকের বড় হতে থাকে দুই শিশু। এক পরিবারের শিশুটি জন্ম লাভের পরে চিন্তিত দুই পরিবার। একটি শিশুর ভবিষ্যৎ এবং অন্যদিকে শুধু এই বেলার খাওয়া। তারপর শিশুরা পরিবার ছেড়ে সমাজে এসে পরে। বন্ধু জন্ম নেয়। নানা বিষয়ে তারার জ্ঞান আহরণ করতে থাকে। কোথা থেকে কোথায় গেলে কি হবে তা শিক্ষা নিতে থাকে। তার পর বিদ্যালয়। একজনের কপালে বিদ্যালয়ের গন্ডির মধ্যে যাবার সুযোগ হলে অন্য জনের সুযোগ হয় রাস্তার পাশে কোন দোকানের দেওয়ালে। একজন শিক্ষা নিতে থাকে পাঠ্য বইয়ের অন্য জন বাস্তব জীবনের।

এই ঘটনা ঘটেচলেছে। সরকার বিনা পয়সাতে পড়ালেখার সুযোগ করে দিচ্ছে ঠিক তেমনি পড়ালেখার উর্দ্ধে যে ক্ষুদা সেটাই বা নিবারন হবে কি করে। এই বাস্তবতার মাঝে শিশুরা বড় হয়।

এই পাঠ্যবই পড়ার মাঝে খেলার মাঠে হয়তো সবাই এক হয়ে যায়। সেখানে কেউ খুব ভালো খেলোয়াড় আবার কেউ গানের, কেউ বা চিত্রকর্মের জন্য সুনাম করতে থাকে। এই গুলো তাদের গুন।

তেমনি এমন অনেকে অনেক গুণ পেয়ে যায় বা সেই গুন গুলোই কাজে লাগানোর মানসিকতা খুবই কঠিন। খুব প্রচলিত একটা কথা থাকে “যেটা তোমার মন চায় সেটা করো”। কথাটা বলা যতটা সহজ বাস্তব জীবনে ততটাই কঠিন।

বর্তমানে সুশান্ত সিং রাজপুতের কথাই ধরি। সংক্ষিত আকাড়ে বলি। আপনারা সবাই তাকে একজন বলিউডের একজন নায়ক হিসাবে চিনতেন। তার গুন সে খুঁজে পেয়েছিল এই অভিনয়ের জগতে। তাই হয়তো সে ইন্জিয়ারীং-এ ৭ম তম স্থান অধিকার করে সেখানে পড়া লেখা শুরু করেও মাঝ পথে সে বলিউডের দিকে হানা দেয়। হ্যাঁ সে All India Engineering Entrance Examination(AIEEE) পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অধিকার করেছিলেন। অর্থাৎ তার ভবিষ্যতে ইন্জিনিয়ার হওয়া নিশ্চিত ছিল। তবু তিনি সেখান থেকে চলে আসেন অভিনয়ের জগতে। কারণ তিনি সেটাতে পারদর্শি বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এবং তিনি সফল। আবার আমাদের বাংলাদেশের মুজতাফিজ। আজ তাকে আমরা ফিজ বলে চিনি। তিনি কিন্তু পড়ালেখা করেন নি। তার পড়ালেখা হাই হ্যালো টাইপের ছিল। কিন্তু আজ আমাদের কাছে কত পরিচিত। বলতে পারেন যে কেন তাদের কথাই বললাম মেসি, রোলান্ড, নেইমার, সাকিব আল হাসান আরো অনেকে নাম আমি বলতে পারতাম কিন্তু তবুও এই দুইজনের নাম নেবার কারণ আছে।

সুশান্ত সিং এক নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছেড়ে যখন এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এসেছে তখন তার পরিবারের অবস্থা চিন্তা করুন। আপনার পরিবার হলে কি করতো? নিশ্চয় ঝগড়া, আপনার উপর তীব্র কিছু প্রশ্ন চলে আসতো। আপনার পরিবারের বিপক্ষে এতবড় একটা কাজ কার সহজ না। তবুও তার গুনের কারণে সে এসছে। আর এক দিকে মুসতাফিজ। তার অবস্থা খেলোয়াড়। তিনি পড়ালেখা না করবার কারণে তার সমাজ তাকে বারবার অবহেলা করেছে। কিন্তু তবুও তিনি খেলা ছেড়ে পালিয়ে যায় নি। তাই আজ আমরা তাকে ফিজ হিসাবে চিনি।

আমি যতটা সহজে বলেছি, এই বাস্তবতা এতটা সহজ ছিল না। অনেক বেশিই কঠিন ছিল। পরিবার, সমাজের বিরুদ্ধে করা কাজগুলো অনেক কঠিন হয়ে দাড়ায়। আর সেই নড়বরে ভীতটাকে শক্ত করাটা খুবই কঠিন। যতটা কঠিন এক তীব্র স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে নদীর অপরপ্রান্তে পৌঁছানোর মতো।

তাই বলে আমি পড়ালেখা ছেড়ে দিতে বলছি না। বলছি না শিক্ষাঙ্গন ছেড়ে তোমার গুণের পিছনে দৌড়াও। তবে হ্যাঁ যেটা তোমার মাঝে বিদ্যমান সেটাকে কাজে লাগানো উচিত। কেউ লিখতে ভালোবাসেো. তার জন্য নিশ্চই পড়ালেখা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। তাকে তো জানতে হবে। শব্দের সাথে তার পরিচয় হতে হবে। তাই নিজের পরিবারের সাথে থেকে শিক্ষা নিতে থাকুন। নিজের প্রতিভার সাথে নিজের পরিচিতি নিয়ে আসুন সমাজের মাঝে।

এই জীবন শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। একটা প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের অভাব। তাই শিক্ষা গ্রহন করুন। জানুন আপনাকে, মানুষকে। আর আপনি কি করতে পারেন যা অন্যের উপকারে আসবে। তাই করুন। কেউ না থাকলে আমি আছি আপনার পাশে।

হতাশ হবেন না। কারণ আপনি যে বিষয়টা শিখছেন সেটা নিয়ে অন্য একজনও আছে। তার কারণেই বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের রোলের বিষয়টা আছে। তেমনি বাস্তব জীবনেও।

এই জীবনের এ্ই দৌড় প্রতিযোগীতায় আমরা হোচট খাই। তখন উঠে দাড়াতে চাইনা। কারণ আমরা হতাশ হয়ে যাই। সবাই আমাদের ঐ প্রথম স্থানটা পাবার কথা বলেছে। তাই তখন ভাবি সেটা আর পাবো না। কিন্তু আপনি সেই শেষ লাইনটার পরে প্রথম হবেন না কি হেরে যাবেন তা তো সেই লাইনটা শেষ করলেই জানতে পারবেন। তাই হোচট খেয়ে যদি পরে যান আর যদি উঠে দাড়ানোর জন্য যদি কারে হাত না পান, তবে নিজে উঠুন, আর যদি একান্তই কারো হাতে প্রয়োজন হয় আমি আছি। শুধূ শেষ লাইনটা পার করুন। কারণ আপনি দৌড়াতে পারেন। আপনার সেই প্রতীভা নিয়ে শেষ লাইনে পৌঁছান। হয়তো সেখানে কেউ একজন হলেও আপনার সেই চাহিদা পুরনের অপেক্ষায় আছে।

তাই বলে যেতে হয় আপনার কোন ক্ষুদ্রপ্রতিভা আপনাকে কোন এক শীর্ষস্থানে অবস্থান গড়ে দিবে। আমি ক্ষুদ্র মানুষ ক্ষুদ্র আমার প্রতীভা, আপনি বৃহৎ ব্যাক্তি, বুঝবেন আমার লেখাগুলোর গভীরতা। ধন্যবাদ।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ

image_printPrint

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুজিব বর্ষ

মুজিববর্ষ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১১
  • ১২:০৮
  • ৪:৪১
  • ৬:৪২
  • ৮:০২
  • ৫:২৯

ক্যালেন্ডার

August 2020
M T W T F S S
« Jul    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31